নিম পাতা ব্যবহার করে ব্রণমুক্ত ত্বক পাওয়ার উপায়
ব্রনের জন্য নিম পাতার ব্যবহার বহু শতাব্দি ধরে চলে আসছে। যাদের অতিরিক্ত এলার্জি তাদের জন্য এই নিম পাতা খুবই কার্যকরী একটি উপাদান। বিশেষ করে যাদের ব্রণ আছে। নিম পাতা শুধু যে ব্রণের কাজ করে সেটা না, নিম পাতা আমাদের শরীরে অনেক উপকারে আসে।
এই নিম পাতা শুধু শরীরের বাহ্যিক কাজে আসে না শরীরের অভ্যন্তরীণ সুস্থতায় কাজে লাগে। এই নিম পাতা রক্ত পরিষ্কার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এই নিম পাতায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যাসিড ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ আছে। আসুন জেনে নি নিম পাতা আমাদের কি কি কাজে লাগে।
পেজ সূচিপত্রঃ ব্রনের জন্য নিম পাতার ব্যবহার
- ব্রনের জন্য নিম পাতার ব্যবহার
- নিম পাতার ফেস প্যাক
- নিম পাতা ও কাঁচা হলুদের গুন
- ত্বকের তৈলাক্ত ও ব্রণের দাগ দূর করতে নিমপাতা
- নিম পাতা সংরক্ষন করার উপায়
- নিম পাতার উপকারিতা
- টোনার হিসেবে নিম পাতার ব্যবহার
- চুলের যত্নে নিমপাতার হেয়ার প্যাক
- ব্রণের যত্নে নিম পাতারঃ FAQ’s
- লেখকের শেষ মন্তব্য
ব্রনের জন্য নিম পাতার ব্যবহার
নিম পাতার ফেস প্যাক
প্রথমে নিম পাতা ভাল ভাবে ধুয়ে শিল পাটায় বেটে নেব মিহি করে। তারপর পরিমান মতো লেবু আর গোলাপ জল দিয়ে ভাল করে পেস্ট তৈরি করে নেব। এরপর সমস্ত মুখমণ্ডল এ লাগিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করবো। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলব। নিম পাতা আর চন্দন দিয়ে যদি ফেসপ্যাক তৈরি করতে পারি সেটা বেশি ভাল হবে।
শ্বেত চন্দনঃ (White Sandalwood) এটি অত্যন্ত সুগন্ধি এবং দামী। চিকিৎসা ও প্রসাধনী তৈরির জন্য এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। ত্বকের রঙ উন্নত করতে, একনো দূর করার জন্য এবং শীতল অনুভূতি লাভের উদ্দেশ্যে চন্দনের মাস্ক ব্যবহার করা হয়। এই দুই উপাদান ভাল করে বেটে মিশিয়ে নেব। এরপর সেই মিশ্রণ মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করব তারপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলব।
নিম পাতা ও কাঁচা হলুদের গুন
উপকারিতাঃ
- মুখের ব্রন ও ব্রনের দাগ দূর করতে নিম পাতাও কাঁচা হলুদের মত কার্যকরী উপাদান আপনি আর পাবেন না।
- এই বড়িটি শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- তখন উজ্জ্বল ও ফর্সা করতে সেই প্রাচীনকাল থেকে কাঁচা হলুদ নিম পাতা ব্যবহার হয়ে আসছে।
- কাঁচা হলুদে আছে আন্টি অক্সিজেন যা ত্বকের বলি রেখা দূর করে এবং বার্ধক্যজনিত সমস্যা প্রতিরোধ করে কোন পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া ছাড়াই।
- নিম পাতাও কাঁচা হলুদ শরীরে পরিপাকতন্ত্রকে সচল রেখে সঠিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে। নিম পাতা শরীরে এলার্জিজনিত সমস্যা চুলকানি ফুসকুড়ি ইত্যাদি দূর করতে অত্যন্ত কার্যকরী।
ত্বকের তৈলাক্ত ও ব্রণের দাগ দূর করতে নিমপাতা
ত্বকের তৈলাক্ততা বলতে আমরা বুঝি ত্বকে অতিরিক্ত তেল থাকা। যাদের হরমোনের সমস্যা আছে এই হরমোনের সমস্যা থেকে ত্বকে অতিরিক্ত তেল সৃষ্টি হয়। ত্বকে অতিরিক্ত তেল থাকলে ব্রণের সৃষ্টি হয় যা আমাদের জন্য অস্বস্তিকর। আসুন জেনে নিই কিভাবে এই অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বক থেকে ব্রন ও ব্রণের দাগ দূর করব।
অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব আর ব্রন দূর করার জন্য প্রথমে নিম পাতা ভাল ভাবে ধুয়ে নিম পাতার পেস্ট তৈরি করে নেব। এর পর নিম পাতার পেস্ট একটি বাটিতে নিয়ে তার মধ্যে ২ চা চামচ বেসন মিশিয়ে ঘন একটি পেস্ট তৈরি করে নেব। পেস্ট তৈরি করে নেওয়ার পরে আমাদের মুখটা সুন্দরভাবে ধুয়ে নেব। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে শুকিয়ে নেব। তারপর সেই পেস্টটি পুরো মুখে ভালোভাবে লাগিয়ে ২০ থেকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করব যাতে পেস্টটি সুন্দরভাবে শুকিয়ে যায়।
পেস্ট শুকিয়ে যাওয়ার পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে হাতের আঙ্গুলের সাহায্যে ম্যাসাজ করব তারপর ভালোভাবে ধুয়ে নেব। এইভাবে যদি সপ্তাহে দুদিন আমরা ব্যবহার করতে পারি তাহলে পার্থক্য বুঝতে পারবো। এই ফেস প্যাকটি ত্বকের সংক্রামক ব্যাকটেরিয়া দূর করে। নিম পাতায় এন্টি এ এসিড থাকার কারণে আমাদের ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করতে সাহায্য করে।
নিম পাতা সংরক্ষন করার উপায়
বর্তমানে নিম গাছ এখন সচরাচর দেখা যায় না। বিশেষ করে যারা শহরে থাকে তাদের জন্য এই নিম পাতা সংরক্ষণ করা অনেক দরকার। কারণ নিমপাতা আমাদের ত্বকের এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের একটি মাধ্যম।
- নিমপাতা যেভাবে সংরক্ষণ করবঃ
ব্রনের জন্য নিম পাতার ব্যবহার খুবই উপকারী একটি উপাদান। যদি নিম পাতার গাছ আশেপাশে দেখা না যায় তাহলে মার্কেটে অনেক দোকানে এই নিম পাতা কিনতে পাওয়া যায়। নিমপাতা কেনার পর সেই নিম পাতা তিন থেকে চার দিন রোদে শুকিয়ে সেটা গোড়া করে আমরা কাচের জারে রেখে দেবো। এইভাবে সংরক্ষণ করে প্রায় এক বছর আমরা এটার ব্যবহার করতে পারি।
নিম পাতার উপকারিতা
নিম পাতা আমাদের অনেক উপকারে আসে। নিম পাতায় নিম্বিন নামে এক ধরনের উপাদান আছে যা ফাঙ্গাস ও ব্যাকটেরিয়া রোধ করতে সাহায্য করে। মাথার ত্বকের চুলকানি কমায়, চুল শক্ত হয, চুলের শুষ্কতা কমে যায় চুল নতুন ভাবে গজায়।
নিম পাতায় ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস থাকায় হাড় ও দাঁত গঠনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হিসেবে কাজ করে। প্রতিদিন সকালে নিম পাতা খালি পেটে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। চোখের নানাবিধ সমস্যা সমাধান করে। নিমপাতা ডায়াবেটিস হৃৎপিণ্ড দূর করতে সাহায্য করে।
নিম পাতা এমন একটি ঔষধি উপকরণ যার উপকারিতা বলে শেষ করা যায় না।তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত এই প্রাকৃতিক উপাদানটি ব্যবহার ও সেবন করা যা অনেক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
টোনার হিসেবে নিম পাতার ব্যবহার
ব্রণের জন্য নিম পাতার ব্যবহার সম্পর্কে ইতিমধ্যে আমরা এই পোস্ট থেকে জেনেছি। নিম পাতা কি কি কাজে লাগে। কি কি উপাদান আছে ইত্যাদি জেনেছি। এখন জানবো নিম পাতার টোনার কি ভাবে করবো।
তাহলে চলুন জেনে নি, প্রথমে একটি পরিষ্কার বাতিলে দুই কাপ পরিমাণ পানি নেব তারপর কিছু নিমপাতা ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিয়ে সেই পানির মধ্যে দিয়ে দেবো। সেই পানি ততক্ষণ জ্বাল দেবো যতক্ষণ না পর্যন্ত পানি এক কাপ এর কম হয়ে যায় বা সবুজ রং ধারণ করে। যদি এরকম হয়ে যায় তাহলে চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করে নেব। তারপর একটা পরিষ্কার স্প্রে বোতল নিয়ে তার মধ্যে ছেঁকে নেব এটা প্রায় ২০ থেকে ১৫ দিন এই পানি ব্যবহার করতে পারব। এই ভাবে তৈরি হয়ে গেল টোনার।
- কখন কি ভাবে ব্যবহার করবেন
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ পরিষ্কার করে নিয়ে আমরা এ টোনার ব্যবহার করতে পারি। রাতে ঘুমানোর আগে নিমপাতার টোনার দিয়ে ঘুমাতে পারি। এই নিম পাতার টোনার যাদের এলার্জি আছে ব্রনের দাগ ইত্যাদি সমস্যা সমাধানে খুবই কার্যকর।
চুলের যত্নে নিমপাতার হেয়ার প্যাক
আমরা ব্রনের জন্য নিম পাতার ব্যবহার যে ভাবে করতে পারি ঠিক তেমনি করে চুলের যত্নেও আমরা নিমপাতা ব্যবহার করতে পারি। চলুন জেনে নেই চুলের যত্নে নিমপাতা কি উপকারে আসে। বিশেষ করে সামার সিজনে গরমে আমাদের মাথার স্কেল গুলো ভিজে থাকার কারণে খুশকি, মুঠো ধরে চুল ওঠা এগুলো দেখা যায়। আবার ঘামের কারনে চুলকানি হয়।
চলুন এখন এই সব সমস্যা সমাধান করি। নিম পাতার হেয়ার প্যাকটি তৈরি করার জন্য প্রথমে কয়েকটি ভাতা পরিষ্কার করে ধুয়ে পেস্ট তৈরি করে নেব। এরপর সেই নিম পাতার পেস্ট এর সাথে নারিকেল তেল বা যাই যা ব্যবহার করে সেই তেল আর অ্যালোভেরা জেল দিয়ে ভালোভাবে মেশিয়ে নেব। নিম পাতায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই আছে যার কারনে চুলের জেল্লা ফেরাতে চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং বিভিন্ন রকমের আমাদের স্কেলফে ফাংগাল ইনফেকশন আছে সেগুলো ভাল করতে সাহায্য করে। তারপর স্কেলফে আগে ভাল ভাবে লাগিয়ে নেব পড়ে সমস্ত চুলে লাগাবো। ৩০ মিনিট বা তার বেশি রেখে দেবোর পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলবো। ধুয়ে ফেলার পর এর পার্থক্যটা বুঝতে পারবেন।
ব্রণের যত্নে নিম পাতারঃ FAQ’s
প্রশ্নঃ নিম পাতা কি আসলে ব্রন দূর করে?
হ্যাঁ, নিম পাতা ব্রণের চিকিৎসায় বেশ কার্যকরী একটি প্রাকৃতিক উপাদান। নিম পাতয় অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল থাকার কারনে ব্রণের জন্য যেসব ব্যাকটেরিয়ার দায়ী তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং নতুন ব্রণ হওয়া প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
প্রশ্নঃ নিম পাতা ডায়াবেটিকস কি নিয়ন্ত্রণ করে?
নিম পাতার গুনো গান বলে শেষ করা যাবে না। আমাদের এমনিতেই ধারনা তেত খেলে সুগার কমে। তাহলে কি ডায়াবেটিকস কমাতে সাহায্য করে। আসুন জেনে নি, নিম পাতা থেকে শুরু করে নিম ফল নিমছাল কোনোটিই প্রতিদিন খাওয়া উচিত নয়। তবে নিম পাতা সব চেয়ে নিরাপদ। কিন্তু প্রতিদিন না। নিমপাতা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে এখন অনেক দাবি থাকলেও মানুষের ওপর এখনো কোন সফল গবেষণা আমরা খুঁজে পাইনি। তবে একটি গবেষনায় পেয়েছি NCBI (National Center for Biotechnology Information) গবেষণা থেকে দেখা যাচ্ছে ডায়াবেটিক ইঁদুরকে নিমপাতা নির্যাস ও নিম পাতা তেল দিলে ব্লাড সুগার লেভেল কমছে। তবে শেষ কথা যেহেতু মানুষের ওপর এটা প্রয়োগ করা হয়নি। তাই বলা যায় ডায়াবেটিকস এ নিমপাতা বেশি একটি কার্যকরী হবে না। তবে নিমপাতা খেলে কোন ক্ষতি নাই সপ্তাহে ১ থেকে ২ দিন খেতেই পারেন।
প্রশ্নঃ নিম পাতা খেলে কি কি উপকার হয়?
- নিম পাতা বা নিম গাছ প্রাকৃতিক ঔষধি গুণের অধিকারী। এটি নিয়মিত খেলে শরীরের নানাবিদ সমস্যা সমাধান করে।
- রক্ত সাফ করে: নিম পাতা রক্তে বিষাক্ত উপাদান বা টক্সিন বের করে রক্ত সঞ্চালনকে স্বাভাবিক অবস্থায় রাখাতে সহায়তা করে।
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে: নিম পাতা শরীরের ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়িয়ে রক্তের শর্করার স্তর(Blood Sugar Level) কমাতে খুব কার্যকর।
প্রশ্নঃ নিম পাতা কি ঔষধ হিসেবে কাজ করে?
অবশ্যই, নিমের পাতা একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক চিকিৎসা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। Ayurveda তে একে 'সর্ব রোগ নিবারণী' হিসেবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। আধুনিক বিজ্ঞানেও নিমের চিকিৎসাগত গুণাগুণকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, কারণ এর মধ্যে প্রচুর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ভাইরাল এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান রয়েছে।
প্রশ্নঃ নিম পাতা কি খুশকি দূর করে?
হ্যাঁ, নিম পাতা খুশকি দূর করে। অনেক ছোট ছোট উপায় আছে খুশকি দূর করার জন্য। কিন্তু তার মধ্যে ঘরোয়া ভাবে খুশকি দূর করতে পারে এই নিম পাতা। নিম পাতায় প্রচুর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল (Antibacterial) থাকার কারনে খুশকি উৎপাদন ব্যাকটেরিয়া নিরাময় করে। নিম পাতা বেটে মাথায় দিয়ে প্রায় ১ ঘণ্টা রেখে ধুয়ে নিতে হবে।
লেখকের শেষ মন্তব্য
ব্রনের জন্য নিম পাতার ব্যবহার কিভাবে করবো, নিম পাতা কি ভাবে সংরক্ষন করবো আর কি কি কাজে লাগে সব কিছু আমরা জানলাম। নিম গাছের, নিম পাতা, ফল, ছাল সব কিছু আমাদের জন্য অনেক উপকারি। বৈজ্ঞানিকভাবে এর স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আবার বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এই নিম গাছকে '২১ শতকের বৃক্ষ' বলে ঘোষণা করেছে। কারন এর ঔষধি গুণাবলী বলে শেষ করা যাবেনা। তাই আমাদের সবার উচিত নিয়মিত নিম পাতা ব্যবহার করা।
আশা করছি এই পোস্টের মাধ্যমে নিম পাতা, ফল, ছাল, বীজ নিয়ে যত প্রশ্ন আপনার মনের মধ্যে ছিল সবগুলো উত্তর পেয়ে গেছেন। এরকম নতুন নতুন পোস্ট পেতে আমাদের পেজে ফলো দিয়ে রাখতে পারেন।
আর ও পড়ুনঃ বেসন দিয়ে ফর্সা হওয়ার উপায় খুব সহজ



রোজটেক এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url