ঘরে বসে নিজকে ফিট রাখা যায় কিভাবে জানুন

 

ঘরে বসে নিজেকে ফিট রাখা যায় কিভাবে চলুন জেনে নি। সুন্দর হতে কে না চাই। সুন্দর হতে চাইলেই কি সবসময় হাজার হাজার টাকার স্কিনকেয়ার পণ্য কিনে আর বিউটি পার্লারে নানা ফেসিয়ালের শরণাপন্ন হতে হবে? অতিরিক্ত টাকা খরচ না করেও কিন্তু সুন্দর হওয়া যায়। 

ঘরে-বসে-নিজেকে-ফিট-রাখা

সবাই নিজের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলতে সবাই চায়। তবে সেটা হতে হবে অর্গানিক এবং কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই স্কিনের যেন কোন ক্ষতি না হয়। তবে আমাদের মধ্যে একটি প্রবল ধারনা যে, তা হলো বাজারের অনেক নামীদামী  উচ্চমূল্যের পণ্য না হলে স্কিনকেয়ার হবে না আর কেউ সুন্দর হতে পারবে না। ব্যাপারটি কিন্তু পুরোপুরি ঠিক নয় ৷ শুধু সুন্দর হলেই হবে না আমাদের রক্ষার জন্য প্রাকৃতিকভাবে সৌন্দর্য ধরে রাখতে পারি। তার জন্য আমাদের কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।  

ঘরে বসে নিজেকে ফিট রাখা 

জীবন সুন্দর ভাবে পরিচালনা করতে আমাদের ফিট থাকাটা অনেক জরুরী। অনেকে নিজেকে ফিট রাখতে জিম এ ভর্তি হয়। বিশেষ করে শহরে এটা বেশি দেখা যায়। আবার অনেকে আছে যাদের পক্ষে জিমে ভর্তি সম্ভব হয় না। আজকের এই পোস্ট তাদের জন্য।

ঘরে বসে নিজেকে ফিট রাখা যায় কিভাবে তা আমাদের জানা উচিত। আর ঘরে বসে নিজেকে ফিট রাখতে আমাদের কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। তাহলে নিজেকে ফিট রাখতে পারব।

পর্যাপ্ত পরিমানে ঘুম

রূপ চর্যার মধ্যে ত্বককে ভালো রাখতে হলে ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। ঠিক তেমনি যদি ঘুম ঠিকঠাক না হয় তাহলে নিজেকে ফিট রাখা যাবে না। ঘুম না হলে শরীর যেমন দুর্বল হবে তেমনি ত্বক লাবণ্য হারিয়ে ফেলবে। চোখের নিচ দিয়ে কালচে ভাব দেখা যায়। আর শরীর দুর্বল হলে কোন কাজ এ মন লাগাতে পারব না। তাই আমাদের সবার উচিত ঠিক মতো ঘুমানো। 
আমরা যদি সময় মতো না ঘুমায় তবে বাজারে হাজার হাজার টাকার পণ্য ব্যবহার করেও পরে সমস্যার সমাধান করা অনেক কঠিন হয়ে যায়। ঘুমানোর সময় ত্বকের কোষ পুনর্জীবিত হয়ে উঠে। যার ফলে ত্বক তাজা ও প্রাণবন্ত দেখায়। তাই যথেষ্ট ঘুমানোর চেষ্টা করা উচিত। 

প্রচুর পরিমানে পানি পান করুন

ত্বকের সুস্থতা ধরে রাখতে অনেক পানি পান করতে হবে। জল শরীরের টক্সিনকে বের করে দিতে সাহায্য করে। এর ফলস্বরূপ, ত্বক উজ্জ্বল ও জীবন্ত হয়ে ওঠে। যখন শরীর হাইড্রেটেড থাকে, তখন ত্বক প্রাকৃতিকভাবে আর্দ্র দেখায় এবং রুক্ষ কিংবা সংক্রমিত মনে হয় না। তাই প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ গ্লাস বা 3 লিটার জল পান করার অভ্যাস তৈরি করুন। 

তবে শুধু জল পান করলেই যথেষ্ট নয়, ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ খাবারও গ্রহণ করতে হবে। এ সব খাবার জলকে আপনার ত্বকে পৌঁছাতে সহায়তা করবে। শুধু যে পানি আমাদের ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখতে সাহায্য করে তাই নয় পানি আমাদের শরীরের অনেক উপকারে আসে। তাই আমাদের সবার উচিত পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা। 

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া 

ঘরে বসে নিজেকে ফিট রাখা ও ত্বকের যত্নে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হলো স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া। পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন সি খাবার খাওয়া। যা ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। তবে স্বাস্থ্যকর খাবারের মধ্যে কিছু খাবার আমাদের প্রতিদিন খাবারের তালিকায় রাখা উচিত।  

স্বাস্থ্যকর আহার মানে এই নয় যে আপনাকে সবসময় ব্যয়বহুল বা বিদেশি খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। আমাদের কাছে যে সাধারণ খাবারগুলি সহজলভ্য, সেগুলির মাধ্যমে শরীরকে ভিতর থেকে সুস্থ রাখা সম্ভব। আমরা রেগুলার খাবার তালিকায় এমন খাবার রাখবো যেগুলো আমদের শরীর ফিট রাখবে। 
যেমনঃ
  • নিজেকে ফিট রাখতে আমাদের প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্ন শাকসবজি রাখতে পারি। 
  • প্রোটিন হিসেবে মাছ, ডাল, মাংস, ডিম আর ও অনেক কিছু রাখতে পারি।
  • শর্করা হিসেবে লাল চালের ভাত, আটা বা ওটস বেছে নিতে পারেন যা দীর্ঘক্ষণ শক্তি জোগাবে।
  • ফলমূল এর মধ্যে কলা, আপেল, পেয়ারা, আবার বাদাম ইত্যাদি খেতে পারেন। 

নিজেকে ইতিবাচক ধারায় রাখুন 

নিজেকে ফিট রাখার অন্য তম মাধ্যম হল সব সময় নিজেকে ইতিবাচক ধারায় রাখা। শুধু জিমে গেলে আপনি নিজেকে ফিট রাখতে পারবেন এমনটা না ও হতে পারে। আপনার মানসিক অবস্থা যত সুন্দর থাকবে আপনাকে ততোই সুন্দর লাগবে। যখন আপনি ভালো অনুভব করেন, তখন তা আপনার চেহারাতেও প্রতিফলিত হয়। 

নেতিবাচক চিন্তা, অকারণ দুশ্চিন্তা বা আত্মসমালোচনা শুধু মানসিক চাপ বাড়ায় এবং আপনার মুখের অভিব্যক্তিকেও ম্লান করে তোলে। নিজেকে ইতিবাচক রাখতে প্রতিদিন ছোট ছোট বিষয় নিয়েই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন, নিজের অর্জনগুলোকে স্বীকৃতি দিন এবং আশেপাশের সুন্দর মুহূর্তগুলো উপভোগ করুন। পছন্দের কাজ করুন এবং নিজেকে ভালোবাসতে শিখুন।

ধীরস্থির থাকুন

প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝে এক কাজ থেকে আরেক কাজের দিকে ছুটে যাওয়া, দ্রুত খাবার খাওয়া এবং ঠিকমতো শ্বাস নেওয়ার সময় না পাওয়া এগুলো এখন খুবই সাধারণ বিষয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু সব সময় তাড়াহুড়া করলে শুধু মানসিক চাপই বৃদ্ধি পায় না, বরং এটি আমাদের শরীর ও ত্বকের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যদি আমরা ধীরস্থির ভাবে কাজ করি, তাহলে মানসিক শান্তি বজায় থাকে এবং এটি আমাদের আত্মবিশ্বাসকেও বাড়িয়ে তোলে। বিনা প্রয়োজনে চেহারায় পরিবর্তন আনার প্রয়োজন নেই অনেক সময় তা আমাদের চলাফেরার ধরন অনুযায়ী নির্ভর করে। 

নিজেকে ফিট রাখা মানে যদি আমরা মনে করি যে শুধু জিমে যাওয়া ভাল ভাল খাবার খাওয়া তাহলে আমরা ভুল রাজ্যে বাস করি। মানসিক শান্তি বেশির ভাগ আমাদের শরীরের ফিটনেস ধরে রাখতে সাহায্য করে। আমাদের সবার উচিত নিজেকে ফিট রাখতে হলে সব সময় ধীরস্থির থাকতে হবে।

শ্বাস নেওয়ার সময় অমনোযোগী হবেন না

নিজেকে স্বাস্থ্যকর, সুন্দর এবং জীবন্ত রাখতে গভীর নিঃশ্বাস গ্রহণের গুরুত্ব অপরিসীম। যখন আমরা দ্রুততার মধ্যে বা উদ্বেগে থাকি, তখন অনেক সময় সাধারণের তুলনায় কম গভীর শ্বাস নিই, যা শরীর ও ত্বকের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে। গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার মাধ্যমে শরীরে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের যোগান মেলে, যা ত্বকেও রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করে এবং তাকে তাজা ও উজ্জ্বল রাখে। 
ঘরে বসে নিজেকে ফিট রাখা যায় কিভাবে তা আমরা ইতিমধ্যে জানলাম। নিজেকে ফিট রাখতে আমরা ঘরে বসে ইয়োগা করে থাকি। এই ইয়োগা এক ধরনের প্রাচীন ব্যায়াম ও ধ্যান পদ্ধতি। এর মাধ্যমে নিজের শ্বাস-প্রশ্বাস সঠিক ভাবে কার্য পরিচালনা করে যা আমাদের শরীর ও মন ভাল রাখতে সাহায্য করে। নিজেকে ফিট রাখতে এই ইয়োগা আমাদের সবার করা উচিত। এটা করলে অনেক উপকার হয়।

উপকারিতাঃ

  • শরীরকে নমনীয় এবং শক্তিশালী করে
  • মানসিক চাপ হ্রাস করে
  • মনোযোগী হতে সাহায্য করে  
  • ভাল ঘুম হতে সহায়তা করে
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে

প্রতিদিন ব্যায়াম করা

প্রতিদিন আমরা যদি নিয়মিত ব্যায়াম করতে পারি তাহলে আমাদের শরীরের অনেক উপকারে আসবে। নিয়মিত ব্যায়াম শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ৬০ বছরের বেশি বয়সীরা যদি সপ্তাহে পাঁচ দিন ৩০ মিনিট করে নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাহলে তাঁদের বছরে চিকিৎসার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। নিয়মিত ব্যায়ামের অনেক লাভ রয়েছে।
ঘরে-বসে-নিজেকে-ফিট-রাখা
১.নিয়মিত শারীরিক অনুশীলন হৃদয়ের সুস্থ অবস্থার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। যারা কার্ডিওভাসকুলার অসুখে আক্রান্ত, তারা যদি ব্যায়াম করে, তবে স্ট্রোকের সম্ভাবনা এক তৃতীয়াংশ কমে যায়। 

২. নিয়মিত শরীরচর্চা করলে পেশী, হাড় ও জয়েন্ট শক্তিশালী হয়। এটি শরীরের অস্থির ঘনত্বকে বাড়ায়, যা অস্টিওআর্থ্রাইটিস এবং অস্টিওপোরোসিস সহ হাড়ের বিভিন্ন অসুখের ঝুঁকি হ্রাস করে।

৩. নিয়মিত অনুশীলন করার মাধ্যমে অনেক ক্যালোরি বার হয়, যা স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করে। সঠিক ওজনের মাধ্যমে বেশ কিছু শারীরিক সমস্যার সমাধান হয়। নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য গ্রহণেও খেয়াল রাখতে হবে।

৪. নিয়মিত ব্যায়াম ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। এর মধ্যে স্তন ক্যান্সার ও মলাশয়ের ক্যান্সার উল্লেখযোগ্য।

৫. বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিসের রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দুই ধরনের ডায়াবেটিসের বৃদ্ধির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। যদি আপনি ডায়াবেটিসের শিকার হন, তাহলে একটি রেজিস্টার বজায় রাখুন। নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং দৈনিক আপনার সুগার লেভেল নোট করুন। এটি করতে থাকলে দেখতে পাবেন রক্তে গ্লুকোজের স্তরে কেমন পরিবর্তন এসেছে।

৬. দৈনিক অনুশীলন করলে আমাদের শরীরে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়; ফলে রক্তে অক্সিজেনের উপস্থিতি বৃদ্ধি পায়। এর ফলে বিভিন্ন মারাত্মক রোগ এড়ানো যায়।

৭. নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের ফ্যাট কমায় এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে কার্যকরীভাবে ভূমিকা রাখতে সহায়তা করে।

৮. নিয়মিত অনুশীলন আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করে, স্মৃতিশক্তি বাড়ায় এবং হতাশাকে হ্রাস করে। এটি নেগেটিভ চিন্তা দূর করে, মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমায় এবং আমাদের মনকে প্রফুল্ল করে তোলে। সারাদিন বিভিন্ন কাজ করার পরও শরীর ও মন তাজা থাকে।

নিজেকে ফিট রাখা FAQ's

প্রশ্নঃ প্রতিদিন ব্যায়াম করলে কি লাভ হয়? 

উত্তরঃ নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের ফ্যাট কমায় এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে কার্যকরীভাবে ভূমিকা রাখতে সহায়তা করে। এটি শরীরের অস্থির ঘনত্বকে বাড়ায়, যা অস্টিওআর্থ্রাইটিস এবং অস্টিওপোরোসিস সহ হাড়ের বিভিন্ন অসুখের ঝুঁকি হ্রাস করে।

প্রশ্নঃ দিনে কত ঘন্টা ব্যায়াম করবো? 

উত্তরঃ নিজেকে ফিট রাখতে দিনে আমাদের ২০ থেকে৩০ মিনিট ব্যায়াম করবো। এটি নেগেটিভ চিন্তা দূর করে, মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমায় এবং আমাদের মনকে প্রফুল্ল করে তোলে

প্রশ্নঃ প্রতিদিন কি ব্যায়াম করতে পারব? 

উত্তরঃ হ্যাঁ ; আমরা প্রতিদিন কি  ব্যায়াম করতে পারব। কারন প্রতিদিন ব্যায়াম করতে পারলে শরীরের অনেক পরিবর্তন আসবে। 

লেখকের মন্তব্য 

ঘরে বসে নিজেকে ফিট রাখা যায় কি ভাবে তা আমরা ইতিমধ্যে জানলাম। আশা করছি আমরা যারা ঘরে থাকি ঘরের কাজের ফাঁকে এই অনুশীলন গুলো কাজে লাগাতে পারে। নিজেকে হাসি খুশি এবং নিজেকে ফিট রাখতে আমাদের এই পদক্ষেপগুলো আপনার কাজে আসবে। 

আমাদের উচিত কাজের ফাঁকে ফাঁকে আমাদের নিজেদেরকেই নিজেরা ভালবাসা। আর এই ভালোবাসা থেকেই আমাদের নিজেদেরকে অন্তত দুই ঘন্টা সময় দেওয়া উচিত। যা আমাদের মন শরীর চাঙ্গা করতে উৎফুল্ল করতে পারে। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

রোজটেক এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url